ঠাকুরগাঁওয়ে তৃতীয় দফায় শুরু হয়েছে শৈত প্রবাহ, জনজীবন বিপর্যয়

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ তৃতীয় দফায় শৈত্য প্রবাহ শুরু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। উত্তরের হিম শীতল বাতাস আর কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ সোমবার (৬ জানুয়ারী) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

হিমালয় পাদদেশে ঘেষা উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। ঘনকুয়াশা ও হিমালয়ের হিমেল হাওয়ার সাথে সাথে পাল্টা দিয়ে চলছে শৈত্য প্রবাহ। কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে এই জেলা। তৃতীয় দফায় শৈত্য প্রবাহ শুরু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধসহ দুস্থ অসহায় ছিন্নমূল মানুষ। স্তবির হয়ে পড়েছে কর্মজীবি মানুষের জীবন-জীবিকা। দুই দিন ধরে দেখা মেলেনি সূর্যের মুখ। এখানে তাপমাত্রা ৮-৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠা নামা করছে। অসহায়, দুস্থ্য মানুষ খড়কুটা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে।

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায় তীব্র শীতে ডায়রিয়া, নিমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত ২৪ ঘন্টায় ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১’শতাধিক শিশু ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সালন্দর কালিতলা এলাকার গবিন্দ দেবনাথ বলেন আমরা হাতে করি পেটে খাই শীতের কারনে ইনকাম কমে গেছে। শীত জনিত কারনে আমার এলাকায় ৪ জন লোক মারা গেছে। একই কথা বলেন সাইফুর রহমান। নারগুন এলাকার করিমুল ইসলাম বলেন আমি বয়স্ক মানুষ। রাতের বেলা দোকান পাহাড়া দেই। আমার কোন জায়গা জমি নাই। আমি একটা কম্বলও পাইনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম দূর্যোগ আখ্যা দিয়ে বলেন শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় ৪০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *