বগুড়ার শিবগঞ্জে মাঝিহট্ট চেয়ারম্যান কর্তৃক ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগ ॥ ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

বগুড়া প্রতিনিধি।।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক গরিব ও দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ ও ২০২০ চক্রে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হলেও নির্বাচিত ভিজিডির কার্ড প্রাপ্ত ৮০ জন পরিবারের দীর্ঘ ৩ থেকে ৪ মাস যাবত কোন চাল পায়নি।
সুবিধাভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর্জা গোলাম হাফিজ সোহাগ প্রায় ৮০ জনের জুলাই, আগস্ট, নভেম্বর মাসের আংশিক ও ডিসেম্বর মাসের পুরো চাল অর্থ্যাৎ ৩ থেকে ৪ মাসের অন্তত ৪০০ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি) চাল অভিনব কায়দায় প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রয় করেছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগীরা ইউনিয়নের শুড়াইল গ্রামের রাম প্রাসাদের স্ত্রী শুনতি রানী (৩৪) ৩ মাসের, মাসিমপুর চালুঞ্জা গ্রামের নির্মল দাসের স্ত্রী বিউটি রানী (২৪) ৩ মাসের, একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বিবি (৩৮) ৩ মাসের, সোলায়মানের স্ত্রী মেহেরা বিবি (২৪) ৪ মাসের, বুলু প্রাং এর স্ত্রী আকলিমা বিবি (৪১) ৩ মাসের, মোকারমের স্ত্রী চ্যামেলী (২৮) ৪ মাসের চাল পায়নি বলে প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ করে। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ৩ থেকে ৫ মাসের চাল না পাওয়ার অভিযোগ দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও
এলাকাবাসীরা জানান, এলাকার ধণাঢ্য পরিবার হতে উঠে আসা প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ সোহাগ কোটি টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এলাকার মানুষের সাথে সম্পৃক্তকতা কমিয়ে দিয়ে লুটে-পুটে খেয়ে আখের গোছাতে ব্যস্ত দিনাতিপাত করছে। এলাকার উন্নয়ন তো দূরের কথা সামান্য বিচার শালিসেও অবৈধ অর্থ উপার্জনে ছাড় দেয় না চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান তার পালিত মাস্তান বাহিনীদ্বারা বিভিন্ন হয়রানীসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, চেয়ারম্যান একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সে বেলা ২টার আগে ঘুম থেকে উঠে না। সপ্তাহে ২দিনও ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। যাতে করে ইউনিয়নের পরিষদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষজন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইউপি তোর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে অসহায় গরীব মানুষের দু’মুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচার জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের ব্যবস্থা করলেও সরকারের এ উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মাঝিহট্ট ইউপি চেয়ারম্যানের দরিদ্র মানুষের চাল আত্মসাতের এরূপ ধৃষ্টতায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসনসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *