জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন পোহাচ্ছে শীতার্তরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
হিমালয়ের কোল ঘেষা দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ে শীতে দাপটে কাপছে মানুষ। দেশের অন্যান্য তুলনায় হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এ জেলার শীতের তীব্রতা অনেক বেশী। চলতি মৌসুমে কখনও শৈত্য প্রবাহ,কখন ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত হওয়ায় শীতে জুবুথুবু জেলার ৫উপজেলার সাধারণ ও শীতার্ত মানুষেররা। ফলে চরম দূর্ভোগে জীবন যাপন করছে তারা। চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে শীতের তাপমাত্রা উঠানামা করলেও শীতের তীব্রতা যেন হ্রাস পাচ্ছে না। ফলে সাধারণ ও শীতার্ত মানুষেরা শীত নিবারনের জন্য খড়খুটা জ্বালিয়ে শীতের উষ্ণতা নেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু খড়খুটার আগুনে দূর্ঘটনা সম্ভাবনা থাকলেও জীবন বাঁচানোর জন্য আগুন পোহাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা প্রতিনিয়ত আগুনে পড়ে অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে। জানা যায়,গত কয়েক বছরে জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগুন পোহাতে গিয়ে বেশ কয়েক শিশু ও বৃদ্ধ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে এবং মারাও গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,কনকনে শীতে ঠান্ডা হাত থেকে রক্ষার পাওয়ার আসায় বাড়ির আঙ্গিনায় ও ফুটপাতে শীতার্তরা আগুন পোহাচ্ছে। এদিকে গরীব ও শীতার্ত মানুষদের সাথে কথা বললে তারা জানান,শীত নিবারনের জন্য বাড়ির আশপাশের গাছের পাতা,খড়,কাঠ গোবর জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। তারা জানায় রাতে শীতের দাপটে ঘুমাতেও পারেনা। সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন শীতের কম্বল দিলেও তা অনেক পাতলা সেই কম্বল দিয়ে কিছুই হয় না। ‘শীতের মৌসুমে শীত নিবারনের জন্য খড়কুটা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দূর্ঘটনা পড়ায় অনেক শিশু ও বৃদ্ধ মারা গেছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ের জেলার স্থানীয় সামাজিক সংগঠন পঞ্চগড়বাসী’র জানায়,’শীতার্তদের জন্য শীতের কম্বল আসলেও শীতার্তরা পায় না আর যে কম্বল দেয়া হয় তা অনেক পাতলা ফলে শীতার্তদের একটিমাত্র কম্বল দিয়ে শীত নিবারনের জন্য যথেষ্ট নয় ফলে তারা শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আসায় আগুন পোহাচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে’।
এদিকে শীতের তীব্রতা নিয়ে কথা হয় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান,’হিমালয়ের অনেক কাছাকাছি পঞ্চগড়ের অবস্থান হওয়ায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশী। আজ সকাল ১০টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *