স্বর্ণ উজ্জল শেরপুর

এস এম আমিনুল মোমিন:
উত্তরাঞ্চলের রাজধানীখ্যাত বগুড়া জেলার বগুড়া পৌরসভার একদিন আগে ১৮৭৬ সালে শেরপুর পৌরসভা স্থাপিত হয়।১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মাসে শেরপুর উপজেলা হিসেবে ঘোষনা হয়।অতিত ইতিহাসেরমত এবারেও স্বর্ণ উজ্জল এ উপজেলা থেকেই পরিচালিত হচ্চে জেলার বিভিন্ন কর্মকান্ড। ইতিহাসখ্যাত এ শহর থেকে অতীতে দিল্লীর সুলতানী আমলে বগুড়া তথা গোটা উত্তর বঙ্গ অনেক বারই সুলতানদের কবলিত হয়েছিল। অভিযান কালে কেউ কেউ শেরপুর ও মহাস্থানকে উপ-রাজধানী ও সেনা ছাউনী রূপে ব্যবহার করেছেন। আসাম ও কোচ বিহার অভিযান কালে এ স্থানটি এক শক্তিশালী ঘাটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।এখানে উল্লেখযোগ্য যে, সেকালে মেহমান শাহী পরাগণার সদর দপ্তর বা হেড কোয়ার্টার মোর্চা শেরপুরেই অবস্থিত ছিল।এখানে রয়েছে অনেক ঐতিহাসক নিদর্শন। খেরুয়া মসজিদের সুনিপুন নির্মান শৈলী এখনও মানুষের মন কাড়ে। শাহতুরকান,শাহবন্দেগীর মাজার এখানে মুসলিম ঐতিহ্যেরই স্বাক্ষী।ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ উপজেলাতেই ৩৬০ জন আউলিয়া সমাহিত আছেন। তাদের অনেক স্মৃতি কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও এখনো অনেক স্মৃতি চিহৃ বিদ্যমান। ইতিহাস খ্যাত হযরত শাহ তুর্কান ও গাজী শাহ বন্দেগী এর সমাধিস্থান দরগাহ শরীফ আমাদের মাঝে কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে আজো।কালের পরিত্রুমায় সময়ের পরিবর্তনে এ উপজেলার মানুষ ই নিজের গন্ডি পেরিয়ে জেলা সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপালন করছে।
আধুনিক শহর হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলার বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন দায়িত্ব পালন করে স্বর্ণ উজ্বল মানুষ হিসেবে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করতে স্বক্ষম হয়েছে শেরপুর উপজেলা থেকেই। তারা হলেন-বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু,বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ, লিয়াকত আলী,আবু রায়হান,বুলবুল ইসলাম, অ্যাড.গোলাম ফারুক,,মাহফুজা প্রামানিক।
স্বর্ণ উজ্বল মানুষ২০১৯ইং তারা হলেন-
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু:

বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। এর আগে তিনি সফলতার সাথে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদ¯্য ছিলেন।এ ছাড়াও শেরপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ার¤্যান, বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (২য়বার)। সে শেরপুর শহরের উলিপুর এর বাসিন্দা। শেরপুরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতোয়া জুট মিল এলাকার আর্থিক অবদার রেখে যাচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান:


টানা তৃতীয় বারেরমত আওয়ামীলীগ মনোনিত সংসদ সদস্য। জন্ম সুত্রে তিনি জেলার ধুনট উপজেলার হলেও শেরপুর উপজেলার হাসপাতাল রোডে স্থায়ী বাসভবনে জীবন যাপন করেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোজাহার আলী কোল্ডস্টোর উপজেলার গুরুত্বপূনৃ ভুমিকা পালন করতে স্বক্ষম হয়েছে। এছাড়াও তিনি গড়েছেন মোজাহার আলী শিক্ষা কমপ্লেক্স যারমাধ্যমে এলাকার ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ।

গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ:


তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী এলাকা বগুড়া সদর আসনে সংসদ সদ্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়া বগুড়া জেলা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমান কমিটির আহব্বায়ক। দেশে রাজনৈতিক ক্রান্তি লগ্নে তিনি জেলার রাজনৈতিক মাঠ সফলতার সাথে হাল ধরেছে।এর আগে তিনি বিএনপি দলের মনোনিত টানা চার বার সংসদ সদস্য ছিলেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস আর গুপ / এস আর ট্রাভেলস এলাকার বেকারত্ব দুরীকরন সহ দেশের অর্থনৈতিক সফলতায় অগ্রনীভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। তিনি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ধনকুন্ডী এলাকার বাসিন্দা।

অ্যাড.গোলাম ফারুক:


বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আইনজীবি হিসেবে সুনামের সাথে এলাকায় সেবামুলক কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শেরপুর পৌর শহরের হাজিপুর এলাকার বাসিন্দা।

ডাঃ মোঃ রায়হান:


শেরপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ রায়হান জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক প্রাপ্ত অফিসার।বাণিজ্যিক ভিত্তিক দেশী মুরগি চাষের প্রধান উদ্যোক্তা। তার সহযোগিতায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলার বেকার জনগোষ্ঠী এবং নারীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিক দেশীমুরগি পালনে “স্বপ্ন ছোয়াঁর সিঁড়ি’র” সম্পৃক্ত হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথখুঁজে পেয়েছে। এ ছাড়াও তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্রজনগোষ্ঠির মধ্যে সহজে পশু পালনের স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট অবদান রেখে যাচ্ছেন।তিনি জন্ম সুত্রে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার বাসিন্দা।

লিয়াকত আলী:

বগুড়া জেলার ১২াট উপজেলার মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ইতিমধ্যেই তিনি সফলতার সাথে উপজেলা বিভিন্ন কাজে সরাসরি নিজে হস্তক্ষেপ করে এলাকার আইন শৃঙখলা বজায় রেখেছে। বাল্য বিবাহ ও শিক্ষার গুনগত মান রক্ষায় তিনি আপোষহীন। এর আগেও তিনি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভুমি) এসিল্যান্ড দায়িত্ব পালন কালে বিভাগীয় এনিমেশন পুরস্কার লাভ করেন।তিনি বলেন- শেরপুর মানুষ যথেস্ট বিনয়ী। এ উপজেলার মানুষ গুলো সহজ সরল। তাদের সাথে কাজ করে সহজেই সফলতা আশা করা যায়। লিয়াকত আলী জন্মসুত্রে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

বুলবুল ইসলাম:


শেরপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত)।পুলিশ জনতা ভাই ভাই এই শ্লোগানের বাস্তব চরিত্র বলা যেতে পারে তাকে। শেরপুরের বৃদ্ধ থেকে কিশোর ,ব্যবসায়ি রাজনৈতকি মহলে যার সুনাম রয়েছে ব্যপক।একটা পর্যায় মানুষ ভুলেই যায় যে সে একজন পুলিশ অফিসার।কেউ ভাবে বন্ধু কেউবা আবার ভাই। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও এলাকার মানুষের নিরাপত্তায় যেমন আপোষহীন তেমনি অসাধারন বিচক্ষনতায় মানুষ কে খুব সহজেই আকৃষ্ট করতে তিনি সক্ষম।তিনি শতভাগ সফলতার সাথে এ থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন।সামাজিক দায়িত্ববোধটাও রয়েছে অনুসরনীয়।সম্প্রতি শেরপুর সরকারী ডিজে হাই স্কুলের জরাজীর্ন খেলার মাঠটি সম্পুর্ন নিজে তত্বাবধানে উদ্ধার রক্ষনাবেক্ষন ও মেরামত করে এক নজির বিহীন ইতিহাস তৈরী করেছে।বুলবুল ইসলাম কোন রাজনৈতিক বিবেচনায় নয় নিজের কর্ম উদ্যামে শেরপুরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।তিনি জন্মসুত্রে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামুনীয়া গ্রামের বাসিন্দা ।

মাহফুজা প্রামানিক:


শেরপুর উপজেলার হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা।তিনি শেরপুর উপজেলার গন্ডি পেরিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ভয়েস অব এশিয়াপত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। জাতীয় পর্যায়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ হিসেবে তিনিই প্রথম জাতীয় দৈনিক পত্রিকার নারী সম্পাদক ও প্রকাশক। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকাটি ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *