বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক ধুনট আ.লীগের একাংশের

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার ধুনট পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র এজিএম বাদশাহ ও তার সমর্থিত লোকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়ে আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার ধুনট পৌর এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছেন আওয়ামীলীগের একাংশ।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে ধুনটে এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় বলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক এএফএম ফজলুল হক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুনট উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সভাপতি টিএমআই নুরুন্নবী তারিকের পরাজয়, আ.লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী দল থেকে বহিষ্কৃত এজিএম বাদশাহর জয়লাভ। এছাড়া উপজেলা পরিষদের উন্নয়নে বরাদ্দ কোটি কোটি টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের উদাসীনতায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এসব নিয়ে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, তার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি ও তার লোকজন এবং অপরপক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকন ও তার লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সড়কে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে চার পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।

এ ঘটনায় ধুনট থানায় আওয়ামীলীগের উভয়ের গ্রুপে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান বাদি হয়ে একই দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দৌলা রিপন, শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অপরদিকে উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল হারুন বাবু ধুনট পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ, আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম রেজা, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম রনিসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ধুনট থানা পুলিশ দু’পক্ষে ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপন (৩৮) ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদত হোসেনকে (৫৫) গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়।

এদিকে ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এমপির ছেলে সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফি, যুগ্ম সম্পাদক মহসিন আলম ও সদস্য ইমরুল কাদের সেলিম রেজাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরোধ চলে আসছে।

নব নির্বাচিত মেয়র ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীবে সোমবার বিকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান মন্ডল পাবলিক স্কুল মাঠে সমাবেশের আয়োজন হয়। সেখানে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আকতারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে জেলা পরিষদের সদস্য এএফএম ফজলুল হক, ধুনট পৌরসভার কাউন্সিলর রঞ্জু মল্লিক, ফরহাদ হোসেন ও ধুনট স্টুডেন্ট ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোমিন সোহেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ পরে শত শত নারী-পুরুষরা মেয়র এজিএম বাদশাহ বাসভবনে গেলে, পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকা- বাধাগ্রস্ত করতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন এজিএম বাদশাহ।

এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা এএফএম ফজলুল হক জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সস্পাদক ব্যক্তি স্বার্থে তাকে, তার ভাই মেয়র এজিএম বাদশাহ্, আসিফ ইকবাল সনি, ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন আলম, শফিকুল ইসলাম, ইমরুল কাদের সেলিম, কৃষক লীগ নেতা আবদুল লতিফ পাখি, সেলিম গেলাট ও জাহিদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের মধ্যে মেয়র ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার ধুনট পৌর এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করবে সর্বস্তরের জনতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *