ফুলচাষ যখন জীবন জিবিকা

স্টাফ রিপোর্টার : মানুষের মধ্যে মননশীলতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সামাজিকতা। কি পারিবারিক কি অফিসিয়াল সব জায়গায় আনুষ্ঠানিকতা করতে বেড়েছে ফুলের ব্যবহার। ফুলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বগুড়া জেলায় অনেক কৃষক কৃষি জমিতে ফুল চাষ করে বাড়তি আয় করছে।

 

দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আর এ তিন দিবসে ফুলের বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার বিভিন্ন এলাকার ফুলচাষিরা। ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে পুরো ফ্রেরুয়ারি মাসটি উৎসবের মাস হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। গ্যালোরিয়াস, রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্র মল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল সারাদেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে । দেশের ফুল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ারস সোসাইটি এর তথ্যমতে, দেশের অভ্যন্তরে বছরে প্রায় ১২শ থেকে ১৫শ কোটি টাকার ফুলের ব্যবসা হয়।

সরেজমিনে এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ‘লং স্টিক রোজে’র পাশাপাশি বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দোল খাচ্ছে জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, হলুদ গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকাসহ হরেক রকমের ফুল। বাতাসে ফুটন্ত ফুলের সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে। ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় ফুলের হাসি লেগেছে চাষিদের চোখেমুখেও। এমনই একজন তরুণ ফুলচাষি শেরপুরের ধাওয়াপাড়া ডাক্তার পাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন।

মাত্র ১৫ শতক জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন। দুই বছর আগে ১০০০ গোলাপ গাছ লাগিয়েছেন তিনি। এখনো ৭০০ গাছ রয়েছে তার বাগানে। দেখা যায় সতেজ গাছগুলোতে ধরেছে গোলাপ কলি । নেট দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছে সেই কলিগুলো । পিতা-পূত্র মিলেই এই বাগানের পরিচর্যা করেন। প্রতি সপ্তাহে কীটনাশক সহ মোট তিন ধরনের ঔষধ ব্যাবহার করতে হয় বলে জানান।

চুক্তিভিত্তিক ফুলচাষ করেন এই চাষী। যে কারনে তার ব্যাবসায়িক ক্ষতি কম হয় বলে তিনি জানান। করোণার কারনে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে ব্যাবসার কিছু ক্ষতি হলেও তা পূষিয়ে যাবে বলে জানান। গত দুমাসে তিনি ফুল বিক্রি করেছেন প্রায় ৩০ হাজার টাকার। একটি করে গোলাপ ২ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। গত মৌসুমে এই বাগান থেকে তিনি সর্বমোট আয় করেছেন ১লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। করোণার কারনে ব্যাবসা কিছুটা কমেছে তবে এবছরে ব্যাবসায় সফল হবেন বলে আশা করছেন। সেই সাথে ফুলচাষের জন্য জমির পরিমানও বৃদ্ধি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *