সিরাজগঞ্জকে নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

হাসান চৌধুরীঃ নান্দনিক শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামীলীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা। পৌর নাগরিকদের বিনোদন, জনসচেনতা, স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও সেবা খাতসহ ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাস উপযোগি একটি নিরাপদ শহর উপহার দিতে পরিকল্পনা বাস্তায়নই হবে ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইতোমধ্যেই এই পৌরশহরে ডাবল লেনের ৬০ ফুট রাস্তা এবং সিঙ্গেল লেনের ৪০ ফুট চওড়া রাস্তা নির্মিত হয়েছে। পৌর নাগরিকেরা এ রাস্তা ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করেন। বিনোদনের জন্য শহীদ শেখ রাসেল পৌর শিশু পার্ক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পয়ঃনিস্কাশনের জন্য প্রায় প্রতিটি রাস্তায় আধুনিক মানসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। শহরে ভেতরের মরা কাটাখাল সংস্কার করে দৃষ্টি নন্দন এবং সৌন্দর্য্য বর্ধন করার কাজও শুরু হয়েছে। পৌরনাগরিকদের সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পৌরসভার তত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত কমিউনিটি সেন্টার। পৌরসভার অভ্যন্তরে প্রবেশমুখে শোভা পাচ্ছে ’চির অম্লান” শিরোনামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাস্কর্য্য। গত পাঁচ বছরে সিরাজগঞ্জের পৌর নাগরিকদের বিনোদন, জনসচেনতা, স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও সেবা খাতেও উন্নয়ন করা হয়েছে। এ সব খাতে খরচ করা হয়েছে প্রায় এক শ ৬০ কোটি টাকা।

যমুনাপাড়ের সিরাজগঞ্জ শহর। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি যানজটের যন্ত্রনাও রয়েছে। পৌরসভায় যেমন উন্নয়ন হয়েছে,আবার পৌর নাগরিকদের পথচলায় যন্ত্রনাও বেড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে রাস্তায় যানজট। শহরের ব্যাটারি ও ইজ্ঞিনচালিত যানবাহনের দৌরাত্ব বেড়েছে বহুগুণে। পুলিশের ট্রাফিকের পাশাপাশি পৌর ট্রাফিক নিয়োগ করেও যানজট সমস্যার সমাধান করা যায়নি। সমস্যা রয়েছে পাবলিক টয়লেটের। প্রতিদিন সিরাজগঞ্জ শহরে আসা হাজারো মানুষের ”প্রকৃতির ডাক” সমাধানে সুষ্ঠু কোন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। মহিলাদের জন্য সমস্যা আরো প্রকট।

সাড়ে ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিরাজগঞ্জ পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। ঘনবসতিপূর্ণ প্রথম শ্রেণির সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় গত পাঁচ বছরে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য ৬২ কোটি টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ৩৮ কোটি টাকা, শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মরা কাটাখাল সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন কাজে ২৪ কোটি টাকা, সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে উন্নয়ন কাজে ২৫ কোটি টাকা, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তের কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিশ্ব ব্যাংকের প্রকল্প সহায়তায় স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ১৩টি স্লাম এরিয়ায় রাস্তাঘাট সহ স্যানিটেশন উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। কাটাখালের উপর তিনটি ’আর্চ ব্রীজ” নির্মাণ করে শহরের শোভা বর্ধণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার পৌর বর্জ্য অপসারণ ও শোধন করে নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উন্নত পরিবেশ উপহার দিতে ”পৌর বর্জ্য বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জ্বালানী উৎপাদন” প্রকল্প নামের একটি বর্জ্য শোধন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক স্কলার পাওয়ার লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনডিউরিং এনার্জী বাংলাদেশ নামের প্রতিষ্ঠান এই কাজ করছে। পৌর বর্জ্য শোধন করে উৎপাদন হবে জ্বালানী। এই জ্বালানী ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে ব্যবহার করা যাবে। আয়তনের তুলনায় ঘনবসতিপূর্ণ এ পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে এক শ টন বিভিন্ন রকমের বর্জ্য পদার্থ জমে। এ সব বর্জ্য পরিকল্পিত উপায়ে অপপসারণ বা শোধন করে ব্যবহারের কোন পরিকল্পনা এর আগে ছিল না। এখন”পৌর বর্জ্য বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে জ্বালানী উৎপাদন প্রকল্পে ব্যবহার করে সলিড রিকভারড ফুয়েল উৎপাদন করা হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা জানান- বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার উন্নয়ন ও জনসেবা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে সাড়ে ২৮ বর্গকিলোমিটার পৌর এলাকায় সড়ক ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করে নাগরিক সুবিধা দেয়া হয়েছে। দেড়শ’ বছরের প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় প্রায় এক শ ষাট কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ শহরকে একটি নান্দনিক শহরে রুপান্তরের জন্য পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মরা কাটাখাল খনন করা হয়েছে। কাটাাখালের পৃথক তিনটি স্থানে আর্চ টাইপ ব্রীজ নির্মাণ করে জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধা দেয়া হয়েছে। এখানে ডাবল লেনের ৬০ ফুট রাস্তা এবং সিঙ্গেল লেনের ৪০ ফুট চওড়া রাস্তা নির্মিত হয়েছে। পৌর নাগরিকেরা এ রাস্তা ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করছেন। বিনোদনের জন্য শহীদ শেখ রাসেল পৌর শিশু পার্ক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পয়ঃনিস্কাশনের জন্য প্রায় প্রতিটি রাস্তায় আধুনিক মানসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। শহরে ভেতরের মরা কাটাখাল সংস্কার করে দৃষ্টি নন্দন এবং সৌন্দর্য্য বর্ধন করার কাজও শুরু হয়েছে। পৌরসভাকে জঞ্জালমুক্ত করে পৌর নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপনের লক্ষ্যে ”পৌর বর্জ্য বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে জ্বালানী উৎপাদন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পৌর নাগরিকদের বিনোদন, জনসচেনতা, স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও সেবা খাতেও উন্নয়ন করা হয়েছে। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নাগরিকদের দৌড়গোড়ায় পৌছে দেয়া হয়েছে। যানজট নিরসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। নাগরিকদের সাথে পরামর্শ করে এ সমস্যা নিরসন করা হবে বলেও তিনি জানান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *