বগুড়ায় প্রথম টিকা গ্রহণ করলেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক

জিয়াউদ্দিন লিটন: স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকাদান কর্মসূচি রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক নিজে টিকা নেওয়ার মাধ্যমে জেলায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এদিকে দুইদিন আগে থেকে বিভিন্ন উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত করোনার ভ্যাক্সিন পৌঁছুতে শুরু করেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বগুড়ায় ৬ হাজার ১৬১জন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এরমধ্য সবচেয়ে কম সংখ্যক রেজিস্ট্রেশন করেছেন দুপচাঁচিয়া উপজেলায় এবং বেশি করেছে সদর উপজেলায়। সদর উপজেলায় ২ হাজার ১৯৪জন, দুপচাঁচিয়ায় ১৩১, আদমদীঘিতে ১৫৮জন, ধুনটে ২৩০জন, গাবতলীতে ৩২৫জন, কাহালুতে ৫৭৫জন, নন্দীগ্রামে ১৬২জন, শাজাহানপুরে ১ হাজার ৩৩০জন, সারিয়াকান্দিতে ২৩৫জন, শেরপুরে ৩১০জন, শিবগঞ্জে ৩০৩জন এবং সোনাতলায় ২০৮জন।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বগুড়ায় মোট ১০ হাজার ৮০০ ভায়াল এসেছে। যা দিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সদর উপজেলায় দেয়া হবে ১৭ হাজার ৬২৫টি ডোজ টিকা।
অন্যান্য উপজেলাগুলোর মধ্যে- আদমদীঘিতে ৬ হাজার ১৯৮টি, ধুনটে ৯ হাজার ২৮৬টি, গাবতলীতে ১০ হাজার ১৪৯টি, কাহালুতে ৭ হাজার ৬২টি, নন্দীগ্রামে ৫ হাজার ৭৪২টি, সারিয়াকান্দিতে ৮ হাজার ৫৯৭টি, শাজাহানপুরে ৯ হাজার ২০৩টি, শেরপুরে ১০ হাজার ৫৬৯, শিবগঞ্জে ১২ হাজার ২৬টি, সোনাতলায় ৫ হাজার ৯৩১টি এবং সবচেয়ে কম দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ৫ হাজার ৬১১টি ডোজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, গত ২৯ জানুয়ারি জেলায় করোনার ১০ হাজার ৮০০ ভায়াল এসে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলার সকল উপজেলায় করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠী এই টিকাদানের আওতায় থাকবে।
অ্যাডভার্স ইভেন্টস ফলোয়িং ইমিইনাইজেশন (এইএফআই) জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য ডাঃ সামির হোসেন মিশু জানান, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সকাল ১১টায় কোভিড-১৯’র টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। ওই হাসপাতালে প্রথমদিনের জন্য ৫০ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২শ’ ডোজ এবং পুলিশ হাসপাতালে ৩০ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে।
জেলায় প্রথম টিকা গ্রহিতা হিসেবে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, ‘যেহেতু বর্তমান সরকারের এটি একটি বড় উদ্যোগ, তাই মানুষকে আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথম টিকাটি আমি নেওয়ার জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করেছি। এই ভ্যাক্সিন নিয়ে অনেকের মাঝেই আশঙ্কা কাজ করছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা যেন কেটে যায় সেজন্য জেলায় প্রথম টিকাটি আমি নেওয়ার জন্য আশা প্রকাশ করেছি। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনও করেছি’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *