বগুড়ায় ঘন কুয়াশা আর শীতের দাপটে স্থবির  জনজীবন

জিয়াউদ্দিন লিটন: স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। এর আগের দিন রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭দশমিক ৭ ডিগ্রি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসেন।
তিনি জানান, সোমবার বগুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ জেলায় শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে ৩১ জানুয়ারি বগুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় বগুড়া জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সারাদিন সূর্যের দেখা মিলছে না। এর সঙ্গে হিমেল বাতাস ও ঘনকুয়াশা শীতের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। শীতের মাঝে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।
জেলার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। জেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকার চরে বেশি ঠান্ডা পড়ায় এখানকার মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তীব্র শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে গবািদপশুরও। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নানা রোগ বালাই। জ্বর-সর্দি ও কাশিসহ নানা ধরনের অসুখ হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদের অসুখ-বিসুখও বেড়েছে। এর উপর দিনের বেলা হালকা গরম লাগলেও বিকালের পর থেকে শীতের মাত্রা বাড়তে থাকে।
বাজারের সবজি বিক্রি করতে আসা লিয়াকত আলী বলেন, অতিরিক্ত শীত পড়েছে। তবু শীত উপেক্ষা করেই পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর জন্য শীতের মধ্যেও ভোরবেলাতে উঠে শাকসবজি তুলে পানি দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে বিক্রি করে বেড়াই।
শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সকালে কোচিং করতে যেতে হয়, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বেশ শীত পড়েছে এতে করে আমাদের যেতে খুব কষ্ট হয়।
যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ওপর এলাকার বাস্তুহারা জরিনা বেওয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে খুব কষ্ট বাবা। বৈশাখী চরের আলেপ উদ্দিন ও ছকিনা বেওয়া বলেন, ‘হু হু করি বাতাস আসি শরীলোত হানে। খুব কষ্ট গো বাবা।
দিনমজুর হেলাল, মফিজ ও আজিবর রহমন বলেন, আমরা প্রতিদিন মানুষের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করে যা পাই তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে চলি। কিন্তু যে শীত পড়েছে বাড়ি থেকে বেরই হওয়া যাচ্ছে না কিন্তু বাড়ি থেকে বের না হয়ে উপায়ও নেই। কাজ না করলে ভাত তো খাওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ভোর থেকেই জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশা রয়েছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে বগুড়াতে। এমন আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলেও জানান সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *