শেরপুরে অধিগ্রহণ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পিএল চিহ্নিত সীমানা সরিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি। স্থাপনা মালিকের এমন ক্ষমতার উৎস কোথায়? 

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শেরপুরে মহাসড়কের সম্প্রসারণ কাজের অধিগ্রহনকৃত ভূমি-স্থাপনার মালিকেরা কেউ কেউ কর্তৃপক্ষের করে দেয়া নির্ধারিত পি এল লেখা সীমানা চিহ্ন নিজেই সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলে ৪/৫ ফুট কমিয়ে দিয়েছে তাতে সরকারি কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা পাচ্ছে স্থাপনা এবং ভূমিমালিক নিজেই। এতে ভূমি মালিকের এই ক্ষমতার উৎস নিয়ে কথা উঠেছে জনমনে।
অনেকেই স¤পূর্ণ স্থাপনা ভাঙ্গার ক্ষতিপূরণ পেয়েও আংশিক ভাংছে এমন অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন স্বচেতন মহল।সরকারি প্রয়োজনে সরকারকার ভূমি অধিগ্রহণ করে থাকে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণও দিয়ে থাকে। সরকারি ভূমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম দূর্নীতি এদেশে নতুন কোন ঘটনা নয়।কমিশনের ভিত্তিতে স্থাপনার ওয়ারিশ বঞ্চিতকরণ,স্থাপনা না থাকতেও স্থাপনা দেখিয়ে সুবিধা প্রদান এবং কমিশন না পেয়ে স্থাপনা থাকতেও স্থাপনাবিহিন ভূমি দেখিয়ে গ্রাহককে বঞ্চিত করার মত ঘটনারও অবতারনা ঘটিয়েছে সরকারি ভূমি অধিগ্রহন শাখা।
এ মর্মে দৈনিক সকালের সময়সহ জাতীয় এবং স্থানীয় অনেক পত্রিকায় ইত:পূর্বে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক চারলেনে সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্প্রসারিত এই মহাসড়কের পাশের দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ভুমি মালিকদের কাছ থেকে ভূমি অধিগ্রহন করছে সরকার। অধিগ্রহনকৃত ভূমি এবং স্থাপনার প্রাপ্যও বুঝিয়ে দিয়েছে স্বস্ব স্থাপনা মালিকদের। কিন্তু সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় শেরপুর বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিন পার্শে শেখ সুপার মার্কেটের উত্তরপার্শের দেয়ালে ভূমি অধিগ্রহণ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পি এল লেখা সীমানা চিহ্ন সাদা রং দিয়ে মুছে দিয়ে প্রায় ৪ফুট পশ্চিম দিকে ভবন মালিক নিজেই লাল কালি দিয়ে পি এল চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। তার এমন অপকর্মের কারণে স্থাপনা ভাঙ্গা বন্ধ রেখেছে পার্শবর্তী সোনাউল্লা কমপ্লেক্স এর মালিকও। শুধু তাই নয় তাঁরা উভয়েই সম্পূর্ণ স্থাপনা ভাঙ্গার জন্য টাকা বরাদ্ধ নিলেও আংশিক ভাংছেন দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ঐ ভবনের মালিক শেখ মকসুদ আলমকে জিজ্ঞাসা করলে “ভূমি অধিগ্রহণ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাকরে তাদের নির্দেশনা মতই তিনি এমনটি করেছেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে গনপূর্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমানা পর্যন্তই সকলকেই ভাঙতে হবে, সীমানা চিহ্ন নিজেরা সরানোর কোন সূযোগ নেই। ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সহকারি কমিশনার ও একজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আফজাল রাজনের ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রসাশক মো: জিয়াউল হকের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করলে, পিএল লেখা সীমানা চিহ্ন সরানোরতো প্রশ্নই আসেনা, যে সকল স্থাপনা মালিক স¤পূর্ণ স্থাপনা ভাঙ্গার ক্ষতিপুরণ পেয়েছে তাদের আংশিক ভেঙ্গে বাঁকি অংশ রেখে দেবারও কোনো সূযোগ নেই। তিনি স¤পূর্ণ স্থাপনা ভাঙ্গার শর্তে ভূক্তভোগীদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *