সিরাজদিখানে ব্যবসায়ীদের ফেলা আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ভোগান্তি পোহাচ্ছে পথচারীসহ হাজারো মানুষ!

মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা সংলগ্ন সমবায় সুপার মাকেটের সামনে পরিত্যাক্ত একটি ডোবায় বাজার ব্যবসায়ীদের ফেলা ময়লা, আবর্জনার ও বর্জ্যরে দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষণসহ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পথচারীসহ স্থানীয় হাজারো মানুষ।

এ থেকে ছড়াচ্ছে নানা ধরনের রোগ বালাই। ব্যবসায়ীদের ময়লা আর্বজনা ফেলার বিষয়টি দীর্ঘদিনেও নজরে আসেনী প্রশাসনের। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির লোকজন ও ব্যবসায়ীদের কারোরই কোন মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজদিখান থানা সংলগ্ন সমবায় সুপার মাকেটের সামনে পরিত্যাক্ত ওই ডোবাটিতে সিরাজদিখান বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ প্রতিদিন নির্দিধায় ময়লা আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন। এতে করে ডোবা সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াতরত পথচারী, যাত্রী এবং স্থানীয় জণসাধারণ নাক বন্ধ করে পার হচ্ছেন এই স্থানটি দিয়ে।

পরিত্যাক্ত ডোবাটির পাশর্^বর্তী থানা মার্কেটের চা দোকানী শিবু বলেন, এই যায়গাটিতে বাজারের সব ব্যবসায়ীই ময়লা আবর্জনা ফেলে যাচ্ছে। এই জায়গাটি এখন এ এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার একমাত্র কারণ। বছরের পর বছর যায় কিন্তু কেউই উদ্যোগ নিয়ে পরিস্কার করাতে আসে না। সমবায় সুপার মার্কেট সংলগ্ন আরেক চা দোকানী মিঠু বলেন, ময়লার গন্ধের কারণে আমার দোকানে কাষ্টমাররা ঠিক মত চা খেতে বসতে পারে না। আমিও দোকানদারী খুব কষ্ট করে করি। এখনতো অভ্যাস হয়ে গেছে।

বাজার কমিটির লোকজন ও আইনের লোকেরা যদি বিষয়টি আমলে নিতো তাহলে হয়ত আমরা একটু হলেও দূর্গন্ধ থেকে নিস্তার পেতাম। অন্যদিকে সিরাজদিখান বাজার ব্যাবসায়ীদের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থান না থাকায় সমবায় সুপার মার্কেট সংলগ্ন ডোবায় ময়লা আবর্জনা ফেলার পাশাপাশি মাছ বাজারে পূর্ব পাশের আরো একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলা হচ্ছে কাচামালের বর্জ্য, মুরগীর বর্জ্য ও গরুর নারী ভূরির বর্জ্যসহ নানা ধরণের বর্জ্য। আর এ কারণে মাছ বাজারের আশপাশের লোকজন পোহাচ্ছেন অসহনীয় ভোগান্তি। দিন দিন মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়াসহ অ্যাডিস, অ্যানোফিলিস, কিউলেক্স, হেমাগোগাসসহ বিভিন্ন ধরণের মশার বংশ বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এব্যাপারে বাজার ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা, বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলার নিদিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় তারা এখানে আবর্জনা ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারটির আশপাশের বসবাসরত লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডোবাটিতে প্রতিনিয়ত বাজারের লোকজন ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মাছ বাজারের পিছনের আবর্জনার স্তুপ পরিস্কারে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে বাজার কমিটির লোকজন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পথচারীসহ স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সিরাজদিখান বাজার বনিক সমিতির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মো. আলম খান বলেন, বাজার বনিক সমিতির লোকজন মিটিংয়ের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য পাঁচপীর মসজিদের পিছনে একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু রাতের আধারে সুইপাররা সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ফেলছে। নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার জন্য বলা হলেও তারা কোন প্রকারেই তা শুনছে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *