ছিনতাই ঘটনার ৬ বছর পরও রক্ষা হলোনা, অবশেষে সিআইডির হাতে ধরা

আবু বকর সিদ্দিক : দীর্ঘদিনের ক্লু-লেস মামলার সকল তথ্য উদঘাটন করল বগুড়া সিআইডি। ২০১৪ সালে জেলার শেরপুরে ফিল্মস্টাইলে মাইক্রোবাস থামিয়ে ছিনতাই ঘটনায় অবশেষে একজনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ঘটনার ৬ বছর পর মামলার তদন্তে প্রধান অভিযুক্ত আসামী ইসমাইল হোসেনকে (৪০)  গ্রেফতার করা হয়।
সে ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন থানার সাচড়া বাথানবাড়ীর মৃত বাচ্চু মীরের ছেলে। গ্রেফতারকৃত ইসমাইলকে বগুড়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে সে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) বগুড়া সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হাসান শামীম ইকবাল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিশেষ পুলিশ সুপার (বগুড়া সিআইডি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের দিকনির্দেশনায় সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শামীম হায়দার গতকাল ভোররাতে সিআইডি ঢাকা জেলা এবং ডিএমপি’র মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। ঢাকা উদ্যানের প্রধান গেটের সামনে থেকে অপরাধ কাজে ব্যবহৃত উদ্ধারকৃত মাইক্রোবাসের চালক (মামলার তদন্তে প্রধান অভিযুক্ত) আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সিআইডি সুত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে শেরপুর ইসলামী ব্যাংক হাইওয়ে শাখা থেকে মামলার বাদী আব্দুল মজিদ সহ তার ভাই ও শ্বাশুড়ি নগদ ১,৩৯,০০০ টাকা উত্তোলন করে অটোরিক্সাযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে মির্জাপুর নামকস্থানে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছিলে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস তাঁদের অটোরিক্সার গতিরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে ৩ জন বের হয়ে নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাদীকে চড়-থাপ্পর মেরে টাকার ব্যাগ কেড়ে নিয়ে ঢাকার দিকে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে শেরপুর থানার মামলা নং ১৫, তারিখ- ১৮/৯/২০১৪ দায়ের করেন। থানা পুলিশ ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করলেও মামলার মুল তথ্য উদঘাটন বা কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। একপর্যায়ে শেরপুর থানা পুলিশ কাউকে অভিযুক্ত না করেই আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরে মামলার তদন্তের জন্য সিআইডি বগুড়াকে নির্দেশ দেন আদালত।
২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তভার গ্রহন করে সিআইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *