সাটুরিয়া উপজেলার “বরাইদ “গ্রাম হল জৈব সারের গ্রাম

মোঃ মাহবুবুর রহমান রানা সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
বাদশা মিয়া ও হাজেরা বেগম দম্পতি মাত্র চার বিঘা জমিতে রবি শস্যের আবাদ করেন। শুরু থেকেই তারা জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে আসছিলেন।

কিন্তু ৩ বছর আগে স্থানীয় কৃষি অফিস তাদের জৈব সার তৈরির উপকরণ সরবরাহ করে। এরপর থেকে এই দম্পতি বাড়িতেই জৈব সার তৈরি করছেন। এই সার দিয়েই চলছে তাদের চাষাবাদ, পাচ্ছেন বিষমুক্ত ফলন। সেইসঙ্গে অতিরিক্ত সার বিক্রি করে মিলছে নগদ অর্থও।

শুধু বাদশা-হাজেরা দম্পতি নয়, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা এলাকার বরাইদ গ্রামের অন্তত ৭০ টি পরিবারের চাষাবাদ ও উপার্জনের গল্প এখন এ রকম।

ওই গ্রামের মানুষ এরইমধ্যে কম্পোস্ট সার তৈরি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
সাটুরিয়া উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বরাইদ গ্রাম। কৃষি অধ্যুষিত এ গ্রামের শতকরা ৯০ শতাংশ পরিবার কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফসলের খেত উঁচু হওয়ায় এ গ্রামে রবি শস্যের আবাদ বেশি। বর্তমানে গ্রামের কৃষকরা জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদন করছেন, যা উপজেলার ৬০ শতাংশ সবজির চাহিদা পূরণ করছে।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আগে বছরের পর বছর জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে নানা রকমের সমস্যায় পড়তেন তারা। এতে ফসলের উৎপাদন খরচও হতো বেশি। ৩ বছর আগে জৈব সার দিয়ে জমিতে চাষাবাদ শুরু হয় গ্রামে। এতে সাফল্য পেতে শুরু করেন তারা। একে-অন্যের দেখাদেখি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে জৈব সারে চাষাবাদ পদ্ধতি।

গ্রামের কৃষকরা জমিতে রাসায়নিক ব্যবহার করায় ফসল নষ্ট ও উৎপাদন কমসহ নানা রকম সমস্যা শুরু হলো। পরিত্রাণ পেতে ২০১৬ সালের দিকে কৃষক শফিকুল ইসলাম (৩২) জমিতে জৈব সারের ব্যবহার শুরু করেন। ওই বছরের মার্চ মাসে তিনি স্থানীয় উপ-সহকারি কৃষি অফিসার আবুল কালাম আজাদের নিকট থেকে কম্পোস্ট সারের ওপর প্রশিক্ষণ নেন।

সেই বছরেই তিনি বাড়িতে কম্পোস্ট সার তৈরির মাধ্যমে নিজের দেড় একর জমিতে সবজি চাষ করেন। এতে আগের বছরের চেয়ে ভালো ফলন পান তিনি। উৎপাদন খরচও নেমে আসে অর্ধেকে।

শফিকুলের দেখাদেখি ওই সময় একই গ্রামের আরো কয়েকজন কৃষক জৈব সার তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি চাষ করে ভালো সাফল্য পেতে শুরু করেন।

এরপর থেকে বরাইদ গ্রামজুড়ে শুরু হয় জৈব সারের মাধ্যমে সবজি চাষ। বর্তমানে জৈব সার তৈরি ও এর মাধ্যমে চাষাবাদে সক্রিয় রয়েছ প্রায় ৭০ টি পরিবার ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *