এরশাদ শাসনামলে দলীয়করণ ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করা হতো না : জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, দেশে সুশাসনের অবনতির কারণে সমাজে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। যার প্রভাবে সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ ও প্রশাসনেও ক্ষমতাসীনরা প্রভাব বিস্তার করে। যা এরশাদ ছিলোনা।

আজ বুধবার জাপার বনানী কার্যালয়ে এক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কুনু মিয়ার নেতৃত্বে ব্যবসায়ী মো. আলী হোসেন সরকার, সুধীন্দ্র শুভ্রসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। জিএম কাদের বলেন, সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে এদেশ থেকে অনেক রাজনৈতিক দল হারিয়ে গেছে। তিনটি দল টিকে রয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। অদুর ভবিষ্যতে এখান থেকেও কেউ ঝরে পড়বে।

জাতীয় পার্টি টিকে থাকতে চায়। রাজনৈতিকভাবে জাতীয় পার্টি অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জনগণের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে হলে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে অনেক নেতা দলছুট হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি থেকে এখন আর কেউ দলছুট হচ্ছে না, বরং যারা চলে গিয়েছিল তারা আবার আসা শুরু করেছেন। সভায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। যার প্রমান সম্প্রতি নির্বাচনগুলো। সরকার বলছে জনগণের সিংহভাগই আওয়ামী লীগের সমর্থনে রয়েছে, অথচ ভোটই পড়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। তাহলে সরকারের সমর্থকরা কেথায়? বাবলু বলেন, সরকারের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা, দুর্নীতিবাজরা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে কারা আটক হচ্ছে? এদের প্রশয়দাতা কারা? ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যদন্ড করা হলেও ধর্ষণ কমছে না। কারণ, আইন হলে কি হবে, আইনের প্রয়োগ নেই।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিরও শাস্তির আইন আছে, প্রয়োগ নেই। সভায় সভাপতির বক্তব্যে এটিইউ তাজ রহমান বলেন, পার্টিকে শক্তিশালী করতে হলে নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সর্বক্ষেত্রে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারিনি বিধায় আমাদের অনেক আসন হারাতে হয়েছে। যোগদান অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা আল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হোসেন, কুনু মিয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আহাদ চৌধুরী, উসমান আলী চেয়ারম্যান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *