ঠাকুরগাঁওয়ে হঠাৎ কোটিপতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ঃ জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মালগাঁও হারিয়াকোণ গ্রামের আলমগীর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি অর্থ উর্পাজনের অভিযোগ এনে দুদক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই উপজেলার বাসিন্দা মুক্তারুল ইসলাম।

অভিযোগে জানা যায়, আলমগীর রহমান হাজিপুর ইউনিয়নের মালগাঁও হারিয়াকোণ গ্রামের মোঃ আব্দুল গণির ছেলে। সে ২০১১ সালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিষ্ট পদে যোগদান করেন। এরপর ২০২০ সালের মে মাসে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট হিসেবে যোগদান করেন। এরই মধ্যে তিনি হয়ে যান বেকার ফার্মাসিস্ট সংগঠনের নেতা। শুরু হয় নিয়োগ বানিজ্য। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি ৬’শ ৩৭টি শূন্য পদে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ‘ফার্মাটেক’ শিক্ষার্থীদের আদালতে রিটের কারণে আটকে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া। এরপর শুরু হয় বেকার ফার্মাসিস্টদের আন্দোলন। দাবী আদায়ে গড়ে উঠে বাংলাদেশ বেকার ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন। তিনি হয়ে যান সেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব। আন্দোলনের এক পর্যায় সরকার করোনাকালীন সময়ে ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় কিছু দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেককে চাকরিও পাইয়ে দেন আবার অনেকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায় তার এই অবৈধ টাকা দিয়ে নিজ উপজেলা পীরগঞ্জ, পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে গড়েছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়। উপজেলার হারিয়াকোন গ্রামে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন আম বাগান। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। এছাড়া গ্রামের বাড়ির আশে-পাশে প্রায় ৩০টি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। বাড়ির পাশে করছেন গরুর খামার। দিনাজপুর জেলার কাঞ্চন ব্রীজ এলাকায় কোটি টাকার জমির প্লট কিনেছেন তার মায়ের নামে। আর ঢাকায় প্রায় কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্লাট কিনে ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন। পীরগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম চৌরাস্তার পাশে ‘গুড বাই’ নামে একটি বিলাসবহুল শপিং কমপ্লেক্সও দিয়েছেন তিনি।

আলমগীর রহমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি (০১৭২৩৭৪২১৭০)।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এসিল্যান্ড তরিকুল ইসলাম বলেন এ ধরনের অভিযোগ এসেছে কি না আমার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *