ঠাকুরগাঁওয়ে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গিয়ে মায়ের গর্ভে থাকা সন্তান হত্যার অভিযোগ উঠেছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ধর্ষক রফিকুল ইসলাম(৩২) দক্ষিণ পাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ পাড়িয়া গ্রামের এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষন করে আসছিল। ধর্ষণের এক পর্যায় ওই বিধবা নারীর গর্ভে সাড়ে তিন মাসের সন্তান আসে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় এক কবিরাজকে দিয়ে ওই নারীকে ১২ অক্টোবর ঔষধ খাওয়ায় রফিকুল। ঔষধ খাওয়ার দুই দিন পর শুরু হয় পেটের পীড়া। স্থানীয় এক দাইমাকে দিয়ে মায়ের গর্ভে থাকা মৃত সন্তানের কিছু অংশ বেড় করলেও বিøডিং কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছিল না। এমন অবস্থায় রোগীকে ২০ অক্টেবর প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে পাঠানো হয়। ধর্ষিতার এক স্বজন জানায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাড়িয়া বাজার এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। সে অত্যন্ত প্রভাবশালী । দলীয় ছত্রছায়ায় এধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে জানায় তারা।

আয়শা ক্লিনিকের ম্যানেজার আবুল হোসেন বলেন প্রথমে ওই রোগীকে আমাদের ক্লিনিকে নিয়ে আসে এবং বিষয়টি গোপন করে ভর্তি করানোর চেষ্টা করে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আধুনিক সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত আয়া জয়নব বেগম বলেন ওই নারীর পেটে সাড়ে তিন মাসের বাচ্চা ছিল। প্রথমে স্থানীয় ভাবে ঔষধ খাওয়ানো হলে পেটের পীড়া হয়। পরে ডিএনসি করার পর প্রথমে দেহ, তারপর মাথা এরপর হাত বের করা হয়। এতে তার জরায়ুর অনেকটা ছিড়ে যায়। ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা শিকার করেন।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রাকিবুল আলম বলেন রোগীকে যখন ভর্তি করানো হয়, তখন রোগীর অবস্থা ভালো ছিল না। এখন রোগী অনেকটা সুস্থ।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান বলেন থানায় এধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *