অতিবৃষ্টির ও দমকা বাতাসের কারনে শেরপুরে আমন ধানে ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফরিপোর্টার:
বগুড়ার শেরপুরে শুক্রবার সকাল থেকে অতিবৃষ্টির ও দমকা বাতাসে শেরপুর উপজেলার দশটি ইউনিয়নের আমন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতের পর ক্ষেতের উঠতি ফসল আমন ধানে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন বৈরী আবহাওয়া অনেকটাই তছনছ করে দিয়েছে। ক্ষেত জুড়ে দেখা যায় দমকা বাতাসে শীষ গচ্ছিত ধানগাছ মাজা ভেঙ্গে এলোমেলো পড়ে গিয়ে বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা।
গত মৌসুমে ধানের আশানুরুপ মূল্য পাওয়ায় এবার প্রথম বন্যার পানি চলে যাওয়ার সাথে সাথে উচ্চ মূল্যে ধানের চাঁরা ক্রয় করে জমিতে রোপণ করেছিল। কিন্তু সব শেষ করে দিল দ্বিতীয় দফার বন্যা। তলিয়ে নিয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন। এ ক্ষতিপুরণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবারের আমন মৌসুমের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমি। অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৮শ হেক্টর। এর মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় অর্জিত হয়েছিল অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর,খানপুর ইউনয়িনের শালফা, শুবলী, ভিটারচড়া, শৈল্লাপাড়া, পান্তাপাড়া, বোয়ালকান্দি, চৌবাড়িয়া, গজারিয়া, বড়ইতলী, নলবাড়িয়ার একাংশ, খামারকান্দি ইউনিয়নের ভাতারিয়া, বোয়ালমারি, নলডিঙ্গিপাড়া, ঝাঁজর, ঘৌরদৌড় কে বন্যাকবলিত এলাকা ধরা হয়। এই দুই ইউনিয়নের কৃষকরাই সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শালফা গ্রামের কৃষক হানিফ উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, জেকের আলীসহ অনেকেই বলেন, গত মৌসুমে ধানের দাম আশানুরুপ পাওয়ায় এবার বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে সাড়ে ৫শ টাকা পোন ধানের চাঁরা ক্রয় করে জমিতে রোপন করেছিলাম। কিন্তু অনাকাঙ্খিত অতিবৃষ্টি হওয়ায় ধানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে এবং মাজা ভেঙ্গে এলোমেলো পড়ে গেছে । এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আগামীদিনে সময়মত সরিষার আবাদ করতে পারব কিনা তাও জানিনা। এ ক্ষতি সাধনে আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *