শেরপুরে আবাসিক এলাকায় রাইস মিলের ছাই যুক্ত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ!

পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে বয়লার মিল-চাতাল

জিয়াউদ্দিন লিটন, স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় অপরিকল্পিত রাইস মিল ও চাতালের ধোঁয়া, বর্জ্য, ধুলো-ময়লা, তুষ-ছাই উড়ে আবাসিক এলাকার বসতবাড়িতে পড়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, আবাসিক এলাকায় অনিয়মতান্ত্রিক মিলচাতালের আবর্জনা বিষাক্ত ধোঁয়া ছাইয়ের কারণে এলাকার অধিবাসীদের শ্বাস কষ্ট, হাপানি সহ মানবদেহে নানা রোগ দিনদিন বেড়েই চলেছে বলে স্বচেতন মহলের অভিযোগ।
বগুড়ার শেরপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে মিল-কলকারখানা। উত্তরাঞ্চলের চালের জন্য অন্যতম প্রসিদ্ধ এলাকা শেরপুর ও মির্জাপুর হাট। চালের চাহিদার কারণেই এখানে গড়ে উঠেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক অটো রাইসমিল ও কয়েক হাজার ধান প্রসেসিং এর চাতাল।বেশির ভাগ মিলচাতালের লাইসেন্সের মেয়াদউত্তীর্ণ হলেও নবায়ন না করেই ব্যাবসা করে যাচ্ছে আবার অনেকের লাইসেন্সই নাই, নাই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। বেড়েই চলেছে মিল-চাতাল এবং অটোরাইস মিলের সংখ্যা, অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে গড়ে উঠছে বেশিরভাগ অটোরাইসমিল, যেগুলো থেকে উদগীরণ হয়ে আসা ছাই, ধোঁয়া, তুষ এবং নির্গত পানি জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে অথচ নির্বিকার পরিবেশ অধিদপ্তর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মদনপুর এলাকার রাস্তার পশ্চিম পাশের আবাসিক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত একটি বৃহৎ অটো রাইস মিল যার পানি নিষ্কাশনের নিজস্ব কোন জায়গা নেই। আবাসিক এলাকায় এবং ফসলি জমিতে পানি নিষ্কাশন করা হয়। এতে সর্বশান্ত হচ্ছেন কৃষক, সবুজ ফলের গাছ মারা যাচ্ছে। চাষ যোগ্য জমি অনাবাদি হতে চলেছে। এছাড়াও বাগড়া চকপোতা এলাকায় গড়ে ওঠা মিল-চাতাল এবং অটো রাইস মিলগুলো পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী লোকজন অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকার মধ্যে এসব মিল গড়ে উঠায় সব সময় মিলের ধোঁয়া, ছাই ও তুষ উড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টিনের ঘর বসতবাড়িসহ গাছ-পালা। এতে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এসব ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে এলাকার পরিবারগুলোতে চোখের রোগ, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ হচ্ছে। এ ছাড়াও ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে শেরূয়া বটতলা বাজার পর্যন্ত মহাসড়কে চাতাল থেকে উড়ে আসা ছাই ও মিলের গুড়া/তুশ চোখে যাবার কারণে প্রায়ই দূর্ঘটনার খবর পেয়ে থাকি।

শেরুয়া বটতলা এলাকার ফুলতলায় যেয়ে দেখা যায় মিল থেকে উড়ে আসা গুড়া এবং চাতালের ছাই মিলে সৃষ্টি করেছে বিষাক্ত এক পরিবেশ তারসাথে যোগ হয়েছে চাতালের পানি। চাতালগুলোতে নিজস্ব পানি নিস্কাশনের কোন ব্যাবস্থা না থাকায় পাকা রাস্তার উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে সরকারি রাস্তার ক্ষতি যেমন করছে তেমনি পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এমনকি একটু নিচু রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এপ্রসংগে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের পঃপঃকর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদের বলেন, মানবদেহের জন্য বিষাক্ত ধোঁয়া ও বাতাসে উড়ন্ত ছাইয়ের কারণে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা সহ নানা রোগ সৃষ্টি হতে পারে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে কোন মিলচাতালের লাইসেন্স দেয়া হয়না। মিলাররা লাইসেন্স নবায়ন না করলে আমাদের কিছু করার নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *