বগুড়ার শেরপুরে কিশোরী ধর্ষণ চেষ্টার জরিমানার সিংহভাগ টাকা মাতবরদের পকেটে থানায় অভিযোগ

জিয়াউদ্দিন লিটন, স্টাফ রিপোর্টার:

বগুড়ার শেরপুরের গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়ন পল্লীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভুগি কিশোরীর বাবাকে জোরপূর্বক ৬০ হাজার টাকা দিয়ে স্ট্যাম্প এর উপরে টিপসই নিয়ে রফাদফা করে বাকি টাকা মাতবরদের মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গ্রাম্য মাতবরদের বিরুদ্ধে। জনপ্রতিনিধিদের দারস্থ হয়েও বিচার না পেয়ে গত বৃহষ্পতিবার (০৮ অক্টোবর) থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এঘটনায় এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হযেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শেরপুরের রামনগর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সাব্বির (১৭) এর সাথে পার্শবর্তী শিবপুর গ্রামের দিনমজুর জনৈক মহিরউদ্দিনের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল । গত ৩রা নভেম্বর অভিযুক্ত সাব্বির পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে বাড়ির লোকজনকে না জানিয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে লিচু বাগানে নিয়ে যায় এবং জোড় পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি চেঁচামেচি শুরু করে এবং ধর্ষণ চেষ্টায় সহযোগিতা করায় আরও তিনজনের নামে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত সহযোগীরা হলেন, মৃত সমান ফকিরের ছেলে আব্দুস সালাম। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের ছেলে বাচ্চু মিয়া ।মোঃ তবিবর রহমানের ছেলে মোঃ আব্দুল মমিন।

ভুক্তভোগি কিশোরীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত সাব্বির আমার মেয়েকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে ফেলে। আমার মেয়ে চেঁচামেচি শুরু করে। প্রতিবেশীরািএগিয়ে  আসলে সাব্বির মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। এ অবস্থায় অভিযোগ ভুক্ত আসামীরা হাজির হয়ে আমার মেয়েসহ ও সাব্বিরকে লিচু বাগানে আটকে রেখে আমাকে খবর দেয়। আমি আমার স্ত্রী সেখানে উপস্থিত হলে সালিশি মাদবর সাব্বির ও আমার মেয়েকে আমার বাড়ির পূর্ব দুয়ারী ঘরে আটকে রাখে। উপস্থিত লোকজন অনেকেই ছেলে এবং মেয়ের বিবাহ দিতে চাইলে বা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলেও অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে আমার মেয়ের বয়স কম এ অবস্থায় বিবাহ দেওয়া আইনত অপরাধ বলিয়া জোরপূর্বক আমার হাতে ৬০ হাজার টাকা গুজে দেয়। এবং একশত টাকা মূল্যের তিনটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের উপরে আমার টিপসই নিয়ে ”কোন বিয়ে-শাদী হবে না তুই এখন তোর মেয়েকে যা পারিস তাই কর” বলে আমাকে এই বলে হুমকি দেয় । এবং ধর্ষণ চেষ্টাকারী সাব্বিরকে নিয়ে চলে যায়।

ভুক্তভোগি কিশোরীর বাবা-মা এঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে ওই কিশোরী জানান, ওই ছেলেটিকে আমি চাই সে আমাকে বিয়ে করতে প্রতিশ্রুতী দিয়েছে।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ওসি তদন্ত জনাব আবুল কালাম আজাদ জানান, থানায় অভিযোগ পেয়েছি । তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *