শেরপুরে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ন্যায্যমূল্য নিয়ে শংকায় কৃষক

0
3

আবু বকর সিদ্দিক : আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার শেরপুর উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য গেল কয়েক বছর ধরেই আলুর প্রচুর ফলন হচ্ছে। তবে নায্য মুল্য পাওয়া নিয়ে শংকায় রয়েছে আলু চাষিরা। কৃষকেরা এখন আলুর জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবছর আলু চাষের লক্ষমাত্রা ২৫ শত হেক্টর জমি। গত বছর এ অঞ্চলে আলু চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ২৮ শ ৩০ হেক্টর জমি আর অর্জিত ছিল ২৮শ ৫০ হেক্টর যা এবছরের তুলনায় ২৫০ হেক্টর বেশী ছিল।
সরেজমিনে গত ৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার উপজেলার আলুচাষ খ্যাত কুসুম্বী ইউনিয়নের কুসুম্বী, লক্ষ্মিকোলা, বাগড়া, টুনিপাড়া, তাজপুর, কেল্লা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে দিগন্তজোড়া মাঠে শুধু আলুর চাষ করা হয়েছে। যেন পুরো মাঠ সবুজের চাদরে ঢেকে আছে।
লক্ষ্মিকোলা গ্রামের আলু চাষি টুনু মিয়া বলেন, ৫ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আলুর গাছও ভালো হয়েছে। বাকী সময়টুকু আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশা করছি ফলনও ভাল পাবো। মিন্টু নামে আরেক আলু চাষী বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি, পরিস্থিতি ভালো থাকলে আশা করি ফলনও ভালো পাবো। তবে ভয়ও হচ্ছে যদি সঠিক দাম না পাই তাহলে আমরা আলু চাষিরা অনেক ক্ষতির মধ্যে পড়বো। তাইতো হাসির ফাঁকে ফাঁকে হতাশার ছায়া লক্ষ্য করা যায় তাদের চোখে মুখে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ধানের পাশাপাশি আলুর ফলনও বেড়েছে। তবুও আলু চাষিদের জীবনে স্বস্তি ফিরছে না।
বিগত বছরগুলোয় এমনও দেখা গেছে, কৃষকের পক্ষে উৎপাদন খরচও তুলে আনা কষ্টকর হয়েছে। আবার হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও লাভের মুখ দেখেননি অনেকে। ক্ষেত্রবিশেষে এমন সংবাদ পাওয়া গেছে যে কৃষক হিমাগার থেকে আলু তোলা থেকে বিরত থেকেছেন, কারণ দামের তুলনায় উত্তোলন খরচ বেশি পড়ে। শেরপুরের আলু চাষীরা এবছর গ্যাণোলা, সুর্যমুখী, কাটিনাল সহ স্থানীয় জাতের আলু বেশি চাষ করেছে।
এ বিষয়ে উপজলা কৃষি কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানান, ভুট্টা ও সরিষা চাষে কৃষকদের বেশী উদ্বুদ্ধ করার কারনে এবার লক্ষমাত্রা গত বছরের তুলনায় কম।