মহাদেবপুরে শিবগঞ্জ-ফেরিঘাট সড়কের বেহাল দশা; স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে

0
3

মহাদেবপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধি : বালুবাহী ট্রাক চলাচল করার কারণে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ ঘাট থেকে মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট পর্যন্ত আত্রাই নদের পূর্বপাড়ের বেড়িবাঁধ সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার কারণে সড়কের কার্পেটিং ইট-খোয়া উঠে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার দু’ধার ভেঙ্গে গিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়কটি। এ অবস্থায় সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, রাস্তাটি দিয়ে মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর, উত্তরগ্রাম ও সদর ইউনিয়ন এবং মান্দা উপজেলার গনেশপুর, ভালাইন, প্রসাদপুর ও সদর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। ২০০৪-০৫ সালের দিকে রাস্তাটি পাকা হওয়ার পর এটি আর সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় গত দুই-তিন বছর ধরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়কটি দিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য মহাদেবপুর বাজার, শিবগঞ্জ হাট, পাঠাকাঠা বাজার, সতিহাট বাজার ও মান্দা উপজেলা সদরে নিয়ে যায়। রাস্তা বেহাল হওয়ায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীর।
সরেজমিন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে মহাদেবপুর বালুমহালের শিবগঞ্জ থেকে পাঠাকাঠা বাজার পর্যন্ত এবং মান্দার উজান অংশের বালুমহালের পাঠাকাঠা থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে বালু তোলা শুরু হয়। এসব স্থান থেকে বড় বড় ট্রাকে করে বালু বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে সড়কটি বেহাল হতে শুরু করে। মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ ঘাট থেকে মান্দার ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। রাস্তার কোথাও কোথাও ইট খোয়ার টুকরো পড়ে রয়েছে। এখন এ রাস্তা দেখে বোঝার উপায় নেই রাস্তাটি পাকা ছিল।

বেড়িবাঁধ সংলগ্ন লক্ষিরামপুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা বড় বড় ট্রাকে করে বালু পরিবহন করায় নষ্ট হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধের রাস্তা এমনিতে নাজুক হয়। নাজুক এই রাস্তা দিয়ে সাত-আটশ মণ ওজনের বালু বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় রাস্তার পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার দুই ধার ভেঙ্গে গিয়েছে। বেহাল এই রাস্তা দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।’
ইলেক্ট্রিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে ঘন ঘন অটোরিকশা নষ্ট হয়। এতে গাড়ি মেরামতে খরচ বেড়ে গেছে। এজন্য যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিতে হয়। ফলে যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।
পিকআপ চালক জহুরুল হক বলেন, এই এলাকায় প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়। কৃষকেরা তাঁদের সবজি হাট-বাজারে নিতে পিকআপ ভাড়া করে। এই সড়কে যাতায়াত করলে গাড়ির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। টাকার দরকার বলে মন না চাইলেও এসব ভাড়া নিতে হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, ফেরিঘাট-শিবগঞ্জ সড়কের সওজের অংশটুকু সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাস্তাটির যে অবস্থা তাতে বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে খুব একটা লাভ নেই। তবে রাস্তাটি সংস্কার হওয়ার পর বেড়িবাঁধের সড়কটি দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে