বগুড়ায় সম্ভাবনাময় এক ক্রিকেটারকে সিনেমা কায়দায় তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন

0
6

বগুড়া প্রতিনিধি।।
বগুড়ায় বাবলা মিয়া (২৪)নামের সম্ভাবনাময় এক উঠতি ক্রিকেটারকে অপহরনের পর তুলে নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় হিন্দি সিনেমা কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে মারপিট করার ঘটনায় তার ক্রীড়া জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে বগুড়া শহরের ভিটিটিআই এলাকায়। বাবলা মিয়া (২৪)শহরের লতিফপুর টোনাপাড়া এলাকার মৃত পুলিশ সদস্য লাল মিয়ার ছেলে ।

জানা গেছে, বেশ কিছু দিন যাবত স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ পূর্ব শক্রতার জের নিয়ে বাবলার কাছে চাঁদাদাবী করে আসছিল। এতে সে অপারকতা জানায় । ওই সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাবলা মিয়াকে দেখে নেয়া হবে বলে শাষিয়ে দেয়া হয় ।
গতবুধবার ক্রিকেট খেলোয়ার হিসাবে শহীদ চাঁদু ক্রিকেট ষ্টেডিয়ামে অনুশিলন শেষে বেলা ১টার দিকে বাড়ী ফেরার উদ্ধেশ্যে রওনা হয় সে। এসময় বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল যোগে চিহ্নিত কয়েকজন যুবক সেখানে যায় । তারা কথা আছে বলে তাকে অপহরন করে জোর করে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায় তারা । এর পর মোটর সাইকেল আরোহীরা তাকে নিয়ে শহরের কলোনী এলাকার শিক্ষা অফিসের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়ে মারপিট করে।

এসময় তার আত্ব চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসা শুরু করলে অপহরনকারীরা স্থান পরিবর্তন করে তাকে সেখানকার ভিটিটিআই ভবনের মধ্য একটি নির্যন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার উপর দফায় দফায় হিন্দি সিনেমা ষ্টাইলে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে মারধোর করে। সেখানে প্রানে বাঁচতে বাবলা প্রানপনে চিৎকার শুরু করলে চিৎকারের উৎস লক্ষ করে লোকজন এগিয়ে যায়। পরে অবস্থার বেগতিক দেখে অপহরনকারী মোটরসাইকেল আরোহীরা সটকে পড়ে। যাবার সময় তারা ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকী দিয়ে যায় । যে কারনে বিষয়টি কয়েক ঘন্টা গোপন রাখা হয়।

পরে আহত বাবলাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় এ বিষয়ে স্থানীয় বনানী পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আলমাসের সাথে কথা বলা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন এবং পরে ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার এ বিষয়ে নাকি অভিযোগ করবেনা । অন্যদিকে ক্লিনিকে ভর্তি আহত বাবলার মামা দুলাল মিয়া জানান এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য বগুড়া শহরের কলোনী এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ গ্রুপ হরহামেশাই তাদের অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও তা দেখার মত কেউ নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর । তারা জানায়, ইত্বমধ্যই অতি সমপ্রতি ওই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ কর্তৃক একাধিক ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা। এলাকার চিহ্নিত ওই সব মুখ চেনা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার হাজারো মানুষ। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।