বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহমেলা

0
4

ম,রফিক,বগুড়া প্রতিনিধি।।
বগুড়ার গাবতলীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা । মূলত শ’ শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলার আরেক নাম হলো মাছের মেলা । তবে এই মেলায় মাছের ব্যাপক সমাহারে রুই কাতলা মৃগেল চিতল বাঘাইড় মাছ সহ দেশী-বিদেশী বড় বড় মাছ এই মেলার প্রধান আকর্ষন হলেও এই মেলায় নেই মাছের রাজা ‘ইলিশ” । এদিকে এই মেলার আরেক নাম মিষ্টির মেলা । বড় বড় মাছের মত সাদৃস্যএই মেলার অন্যতম এক আকর্ষন হলো মিষ্ঠি । এবারের মেলাতেও উপস্থাপন করা হয়েছে ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি । ঐতিহ্যবাহী এই পোড়াদহ মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ চারিদিকে। মেলায় মেয়ে-জামাই, আত্মীয় স্বজনসহ লাখো মানুষের পদচারণা মুখরিত হয়ে উঠেছিল গোটা অঞ্চল। মেলায় শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক বিচিত্র গান, নাগোরদোলা, চরকি এবং মটরসাইকেল খেলা আয়োজন থাকলেও মেলায় প্রচন্ড ধুলার কারনে বিষয়টি যন্ত্রনাকর হয়ে ওরেঠ এক সময় । মেলায় কাঠ ,কাছে বিভিন্ন ফার্নিচার ও ষ্টীলের ফার্ণিচার এ মেলার অতিরিক্ত আকর্ষন।
মেলাকে ঘিড়ে অঞ্চলে মেয়ে ঝিদের আনন্দ এবং উৎসব মেলার ঐতিহ্য বহু দিনের পুরানো । তবে মেলায় কতিপয় প্যান্ডেলে বিচিত্রা অনুষ্ঠানের নামে এলাকার কতিপয় বাটপারদের টু পাইস কামানোর নোংরামো কিছুটা আপত্তি বয়ে আনলেও শিশুদের বিনোদন সহ সার্কাস চরখি যাদু’র আসর মন কেড়েছে ছোটমনিদের ।
বেচা-কিনি করতে আসা হাজার হাজার মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল এই মেলার প্রঙ্গন। এবারের মেলায় মাছের পসরায় ছিল গাবতলীর মহিষাবান গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী বিপ্লব সিরাজগঞ্জ থেকে আনা আকষর্নীয় ৭৩ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছ। যদিও এর দাম হাঁকা হয়েছিল ১লক্ষ ৩০হাজার টাকা। পরে এই মাছটি কেটে বিক্রি করেছেন এর মালিক। ১হাজার ৬শত টাকা কেজি দরে এই বাঘাইড়টি বিক্রি করা হয়েছে। কেটে বিক্রি করায় এর মালিক পেয়েছেন ১লাখ ১৬হাজার টাকা ।
এছাড়াও যমুনা নদী থেকে আনা ৩৪,৪২ এবং ৬৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ কেটে বিক্রি হচ্ছে ১২’শ থেকে ১৬’শ টাকা কেজিতে। সিরাজগঞ্জ সদরের মাছ ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম যমুনা নদী থেকে ৬৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেলায় বিক্রি করেছেন। তিনিও একই দামে বিক্রি করতে পেরেছেন।
এছাড়াও মেলায় বোয়াল মাছের দাম প্রতি কেজি ১৫শ টাকা, নদীর বড়বড় কাতলা ১হাজার টাকা কেজি, আইড় মাছ ১৪ ’শ থেকে ১৫’শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই বিক্রি হচ্ছে ৭’শ টাকা কেজি, চিতল ১২’শ টাকা থেকে ১৪ টাকা কেজি, নদীর পাঙ্গাস ১হাজার টাকা কেজি, ব্রিগেড ৬শ’ টাকা কেজি, ব্লাডকাপ ৭’শ টাকা কেজি, বড় সিলভার কাপ ৪.৫০’শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য জাতের মাছও মেলায় উঠেছে। তবে মাছের রাজা ইলিশ মেলায় উঠে নাই। মেলার জন্য ১০ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি তৈরী করেছেন বিশিষ্ট মিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ।
মহিষাবান এলাকার মিষ্ঠি ব্যবসায়ী বাদশা এবার ১হাজার মন মিষ্টি মেলায় তুলেছেন। ভাল মিষ্ঠির দাম হাকানো হয়েছে ৪ টাকা কেজি। এছাড়াও মেলায় মাছ, মিষ্টি, গরুর মাংস, বড়ই (কুল), কাঠ ও ষ্টীলের ফার্নিচার, কস্মেটিকসহ বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী হাট-বাজারের মতোই ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে যা চোখে পড়ার মতো। উৎসব মুখর পরিবেশে লাখো মানুষের পদচারণায় গাবতলী উপজেলা সদরে কাজী বাজারে, দূর্গাহাটা হাইস্কুল মাঠ, বাইগুনী ও সুবাদবাজারে মাছ-মিষ্টির খন্ড মেলা বসেছিল।

উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বন্দর সংলগ্ন পোড়াদহ নামক স্থানে প্রায় ৪’শ বছর পূর্বে থেকে স্থানীয় সন্ন্যাাসী পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্থান পরিবর্তন করে গোলাবাড়ী বন্দরের পূর্বধারে সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য মেলা বসে। মেলাটি একদিনের হলেও তিনদিন পর্যন্ত চলে এর পরিধি । প্রতিবছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ বুধবার মেলাটি হয়। মেলা উপলক্ষে পার্শ¦বর্তী উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন শ্রেনীর মেলায় দেখা গেছে। এ বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক) মুহাঃ সাবের আদমেদ রেজা বলেন, পোড়াদহ মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি শুখরিয়া আদায় করেণ । এদিকে এই মেলার রেশ হিসাবে প্রতিবছরের মতো বৃহসইপতবার গাবতলীর মহিষাবান ইউনিয়নের রানীরপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে বউমেলা । এই শুধু মাত্র মহিলাদের জন্য হিসাবে গন্য করা হয়ে থাকে । মেলায় অঞ্চলের হাজার হাজার মহিলাদের আগমন ঘটে থাকে ।