স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় লকডাউন কার্যকরী করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সাধারণ মানুষ সহ ব্যাবসায়ীরা মানতে নারাজ এই লকডাউন।
করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়ায় সরকারের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী এক সপ্তাহের লকডাউনের আজ ৩য় দিন চলছে। সম্প্রতি বগুড়াসহ দেশের সর্বমোট ৩১টি জেলায় দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সংঙ্কটময় এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিভাগে সংক্রমণের শীর্ষে থাকা বগুড়ায় লকডাউন চলছে ঢিলেঢালাভাবে।
লকডাউনের ৩য় দিন সকাল ৬টার কার্যক্রম শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ায় শহরমুখী প্রতিটি সড়কেই যাত্রীবাহী অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, মালবাহী ট্রাক, ছোট ট্রাক, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন আগের মতোই চলাচল করছে। শুধু মাত্র বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল।
এদিন শহরের বড় বড় শপিংমলগুলো বন্ধ থাকলেও শহরের বিভিন্ন সড়কে নির্দেশনা অমান্য করে ওষুধ ও জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান বাদেও অনেক ব্যবসায়ীকে দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। মানুষের চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া বগুড়া শহরের চারমাথা, তিনমাথা, সাতমাথা, বড়গোলা, কালিতলা, ফুলবাড়ি, মাটিডালি, জলেশ্বরীতলা, নবাববাড়ি, চেলোপাড়া, কলোনী, হাকিড় মোড়, দত্তবাড়ি, উপশহর এলাকায় অনেক মানুষ দেখা গেছে যারা অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়েছেন। যার ফলে লকডাউনের মধ্যেও শহরে যানজটও দেখা গেছে।
অপরদিকে, শহরের বড়গোলা, টিনপট্টি ও নামাজগড় এলাকার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পাট খোলা রেখেছেন। ফলে বড় বড় ট্রাক দিনের বেলায় ঢুকে মালামাল উঠা-নামা করছে। এছাড়া টিসিবি’র ট্রাকে দ্রব্যসামগ্রী কিনতে ব্যাপক ভীড় দেখা গেছে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। জেলায় লকডাউনের শুরুর দিন থেকে ৩য় দিনেও ব্যবসায়ীরা দোকান খোলার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।
এদিকে, সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর রাখতে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও লকডাউন মানার প্রবণতা কম দেখা গেছে।
রাজশাহী বিভাগে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে থাকা বগুড়ায় সর্বশেষ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৬ এপ্রিলের নমুনা পরীক্ষায় জেলায় আরও ৫০ জন করোনায় শনাক্ত হয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল জেলায় ৮৮জন করোনায় শনাক্ত হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, জেলায় বিগত ১৫ দিনে ব্যাপক হারে করোনা রোগী বেড়েছে । হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অসচেতনভাবে চলাফেরা করছে তাতে বগুড়ার করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাবে।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

By Editor

Leave a Reply