নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুরে আদালতের নিষেধজ্ঞা অমান্য করে বাড়ির নিমার্ণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের হামলায় দুজন আহত হন।

 

বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষে মধ্যে উত্তোজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে নূরে আলম সিদ্দিকী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিবাদমান সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। মামলা নং- ২৫৩ পি/২১ এবং আদালতের ১৬ মার্চ ২০২১ তারিখের স্মারক নং ৩৮০ (২) র মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুনানির তারিখ রয়েছে আগামী ৯ মে ২০২১ইং।

 

নির্মাণকৃত বাড়ির মালিক নাদের আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন আদালতের নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাওতাল মৌজার ৭৪ নং খতিয়ানের ১১২ নং দাগে। আর আমরা বাড়ী নির্মাণ করছি ১০৪ নং দাগে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের কৃষ্ণশাইল (রাওতাল) গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে নূরে আলমের সাথে প্রতিবেশী নাদের আলী ও তার দুছেলের সাথে বসতভিটা নিয়ে পূর্ব থেকেই মনোমালিন্য ছিল। সম্প্রতি নাদের আলী বিবাদমান সম্পত্তির উপর বাড়ী নির্মান করতে গেলে গত ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নূরে আলম সিদ্দিকী বাধা প্রদান করতে গেলে নাদের আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০), আক্তার হোসেন (২৮), মৃত- গুলজারের ছেলে নাদের আলী (৫০). আব্দুল গফুর (৪৫), আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে আবু সালেহ (২৮), নয়ন (২৫), সাইদুল মোল্লার ছেলে উজ্জ্বল (৩০), মৃত- সাদের আলীর ছেলে নূর জালাল (৩৫), হাবিবুল্লাহর ছেলে সাগর আলী (২৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার মহাম্মতপুর গ্রামের মৃত- আবু তাহেরের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০), মৃত- পিয়ার সরদারের ছেলে আঃ রাজ্জাক (৪৫), মৃত-মহির উদ্দিনে ছেলে রবিউল (৩৫), আনারুলের ছেলে রনি (২৬), নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষ্ণশাইল গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন (গুদা) (৩০), মৃত- অছিম উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৫৫), সংঘবদ্ধ হয়ে নূরে আলমের উপর দেশীয় অস্ত্র লাঠি, ইট, ইটের খোয়া দিয়ে হামলা চালালে নূরে আলম সিদ্দিকী মারাত্মকভাবে জখম হন। নূরে আলম সিদ্দিকীকে তার ভাই জাফর আলী বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও আক্রমন করে তার ডান পায়ের হাটুর নিচে ভেঙ্গে ফেলে।

 

 

নূরে আলম সিদ্দিকীর স্ত্রী হাফিজা বেগম বলেন, আমরা বাড়ীর বাইরেই হতে পারছি না। বের হলেই মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। তারা জনসংখ্যায় অনেক বেশী, তাদের গায়ের জোরও বেশী। তাই গায়ের জোরে আমাদের সম্পত্তির উপর বাড়ী নির্মান করবে। আমাদের কোন কিছুই কি করার নাই। আমরা কি বিচার পাবো না?

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নূরে আলম সিদ্দিকী মাষ্টার বলেন, আমি রাওতাল মৌজার ৭৪নং খতিয়ানের ১১২ দাগে ৯৬ শতক সম্পত্তির মধ্যে ২৪ শতক ক্রয় করেছি। তার উপরই নাদের আলী বাড়ী নির্মান করছেন। বিবাদমান সম্পত্তির উপর আমার আদালতে মামলা রয়েছে। তার উপর ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করা রয়েছে। তা সত্তে¦ও নাদের আলী ও তার দুছেলে ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে জোর পূর্বক আদালতের আদেশ অমান্য করে বাড়ী নির্মান করছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ও আমার ভাইয়ের উপর আক্রমন করে। আমাদের মারাত্মকভাবে জখম করেও ক্ষান্ত হন নাই। আমার স্ত্রী, ছেলে কে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। আমাদের বাড়ীর বাইরে বের হতে দিচ্ছে না। বের হলেও বিপদ আছে বলে হুমকি দিচ্ছে প্রতি নিয়ত।

নাদের আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ১১২ দাগে আর আমরা বাড়ী নির্মাণ করছি ১০৪ দাগে। মারামারি প্রসঙ্গে বলেন, আমরা কারো উপর আক্রমন করেনি।

 

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

By Editor

Leave a Reply