জিল্লুর রয়েল, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে এবারো বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাজারমূল্যও অনেক ভালো রয়েছে তাই কৃষক খুশি।

এ উপজেলায় এখন পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। শুরুতে ধান কাটা-মাড়াইয়ের শ্রমিক সংঙ্কটের আশঙ্কা করা হলেও উত্তরের জেলাগুলো থেকে লকডাউনের মধ্যেও মাইক্রোবাস ও ট্রাক যোগে অসংখ্য শ্রমিক এসেছে।

শ্রমিকরা এখন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছে। এ উপজেলায় প্রতি বিঘা জমিতে ২৫/২৬ মণ হারে ধানের ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না থাকায় ভালোভাবে ধান কাট-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি ধান ক্রয়-বিক্রয়ও হচ্ছে।

বর্তমানে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয়-বিক্রয় চলছে। এ বাজারমূল্যে কৃষক অনেক খুশি। বোরো ধানের চাষাবাদ অনেকটা ব্যয়বহুল হলেও লাভের পরিমাণও অনেক বেশি। আর এ উপজেলার কৃষকরা বোরো ধানের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

 

তাই এ উপজেলার কৃষকরা গুরুত্বের সাথে বোরো ধানের চাষাবাদ করে থাকে। এবারো তার কোনো ব্যত্যয় হয়নি। বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৫শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮শ’ ৩৬ মেট্রিকটণ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ধান উৎপাদন হতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরেও এ উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিলো। এবারো ঠিক তাই হয়েছে।

 

বোরো ধানকে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন বলে গণ্য করা হয়। সেই স্বপ্ন এবারো পূরণ হতে চলেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না থাকায় ভালোভাবে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে।

 

এ উপজেলায় এবারো বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যার সুফল পাবে কৃষক। বর্তমান ধানের বাজারমূল্যও অনেক ভালো রয়েছে। কৃষক আব্দুস সালাম জানিয়েছে, বোরো ধানের চাষাবাদে প্রতি বিঘা জমিতে ১২/১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সেই ব্যয় বাদেও ৮/১০ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে।

 

এ কারণে আমরা গুরুত্বের সাথে বোরো ধানের চাষাবাদ করে আসছি। কৃষক আব্দুস সাত্তার জানিয়েছে, এবারো প্রতি বিঘা জমিতে ২৫/২৬ মণ হারে ধানের ফলন হয়েছে।

 

বর্তমান ধানের বাজারমূল্য ভালো রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাপারীরা নন্দীগ্রাম উপজেলায় এসে ধান ক্রয় করে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে।

 

আর শুধু হাট-বাজারে বা আড়তে নয়, বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ক্রয় করছে ব্যাপারীরা। ধান কাটা-মাড়াইয়ের শ্রমিক সোহাগ আলী জানিয়েছে, ৩/৪ হাজার টাকা বিঘায় আমরা ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

By Editor

Leave a Reply