ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সাংবাদিক ইমরান হোসেন ইমনের উপর হামলা চালিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনার এক মাসেও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে থানা পুলিশের নিরব ভূমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে সাংবাদিক মহলে।

 

সাংবাদিক ইমরান হোসেন ইমন ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামের মৃত আমির হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি দৈনিক যায়যায়দিন ও দৈনিক চাঁদনী বাজার পত্রিকার ধুনট প্রতিনিধি এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘অনুসন্ধান বার্তা’ ও ‘অনুসন্ধান নিউজ’ ্এর সম্পাদক ও প্রকাশক।

 

জানাগেছে, গত ৩০ মার্চ রাত ১১ টার দিকে ধুনট মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক ইমরান হোসেন ইমন অফিসের কাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে ধুনট-সোনামুখী সড়কের বেলকুচি গ্রামের পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েক যুবক পিছন থেকে সাংবাদিক ইমনের উপর হামলা চালিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে রাস্তার উপর ফেলে রেখে যায়। এতে সাংবাদিক ইমনের বাম হাত ভেঙ্গে গুরুতর আহত হন এবং তার বাম হাত দেড় মাসের জন্য প্লাস্টার করা হয়।

 

এঘটনায় গত ৬ এপ্রিল সাংবাদিক ইমরান হোসেন ইমনের স্ত্রী ও অনুসন্ধান নিউজ এর সহকারী সম্পাদক ফিজু আকতার বাদী হয়ে ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৬ জনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

এদিকে মামলা দায়েরের এক মাস অতিবাহিত হলেও ধুনট থানা পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেননি। এমনকি মামলার তদন্তেরও কোন অগ্রগতি হয়নি দীর্ঘদিনেও।

 

সাংবাদিক ইমরান হোসেন ইমন জানায়, ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূণীতির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাদের লোকজন দিয়ে রাতের আঁধারে তার উপর হামলা চালিয়ে বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। এঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করে। কিন্তু থানায় মামলা দায়েরের এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি মামলার কোন অগ্রগতিও হয়নি।

 

ধুনট মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এমএ রাশেদ বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের কন্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সাংবাদিক ইমনের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাংবাদিক মহল।

 

এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলটির দায়িত্বভার একজন এসআইকে দেয়া হয়েছে।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই রিপন মিয়া বলেন, বিভিন্ন ব্যস্ততার কারনে মামলার অগ্রগতি কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

By Editor

Leave a Reply